About | বাসুদেব দেব সংসদের কথা

BasudebDeb_flux_1বাসুদেব দেব ( ১৯৩৬ ২০১২)

বাসুদেব দেব একটি দর্শন, এই ভাবেই শুরু করা যাক । ৯ অক্টোবর ২০১২ তাঁর অকস্মাৎ চলে যাওয়ার পর, হতবাক , অভিভাবকহীন  আমরা অনেক ভেবেছি তাঁকে নিয়ে, ভেবে যাচ্ছি । ফিরে দেখা বারবার এই আটপৌরে, চেনা মানুষটিকে । এই ভাবনা থেকে জন্ম নিল ‘বাসুদেব দেব সংসদ’, ২০ ডিসেম্বর ২০১২।

সেদিন ছিল তাঁর ৭৬ তম জন্মদিন । যে ভাবনা থেকে এই সংসদ বা মঞ্চ তৈরি হয়েছিল , একটি চেতনার জীবনচক্র অনুসারে সেটি ক্রম পরিণত হয়ে উঠছে । প্রথমে ছিল কিছু মানুষের তরফে তাঁদের আসম্ভব প্রিয় মানুষটির স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখা । বাসুদেব দেবের  প্রিয়জনেরা তাঁরই দর্শন, জীবনবোধের গভীরে খুঁজতে চাইছিলেন তাঁকে, বাঁচিয়ে রাখতে চাইছিলেন তাঁর স্মৃতি । কিন্তু কিভাবে ? বার্ষিক স্মরণসভার আয়োজন , অপ্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ করে ? এগুলি থাকবে প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে । চেনা মানুষটিকে আবার করে চিনতে গিয়ে , তাঁর কথা বলতে গিয়ে এখন উপলব্ধি হয়েছে, ‘বাসুদেব দেব সংসদ’ বাসুদেবের জন্য নয় । তিনি জীবিত কালেই প্রতিষ্ঠান, প্রচার বৃত্ত, বিতর্ক এবং গোষ্ঠী রাজনীতির থেকে যোজন দূরে  সাহিত্যের সাধনা করে গেছেন  অর্ধশতাব্দীর অতিবাহিত করে ।  তাঁর এই সংসদের প্রয়োজন নেই, যারা তাঁর অবর্তমানে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের তেত্রিশ কোটি দেবতার এক দেবতা রূপে নিত্যপূজা এবং নিরবধি ভক্ত সমাগমের ব্যাবস্থা করবে । তিনি এই ব্যাবস্থা উত্তীর্ণ । আসলে এই সংসদ আমাদের প্রয়োজন । আমরা কারা ? আমরা একদল অভিযাত্রী । যারা কিছু না কিছু খুঁজছি । জীবনের মানে , মুক্তির পথ , উত্তরণের দিশা , আশ্রয় বা একজন আদর্শ মানুষ বা একটি অনুকরণীয় জীবন ।  আর এই সব পথ মিলত একটি জায়গায়, যার নাম বাসুদেব দেব ।

বাংলা সাহিত্যে তাঁর পরিচয় ষাটের স্বতন্ত্র কবির । এই পরিচয় সামান্যর থেকেও কম যদি কিছু হয় তাই । সাহিত্যের অনান্য শাখায় রেখেছেন উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব। পঁয়তাল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে প্রকাশ করে গেছেন উঁচুতারে বাঁধা  কালপ্রতিমা সাহিত্য পত্রিকার । কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক , নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং দার্শনিক এই বিরল মানুষটির সদ্ব্যর্থক মূল্যায়ন করেনি সমকালীন বিজ্ঞাপন ও ব্যাবসায়ের সাহিত্য বাজার । এসব নিয়ে তাঁর কোন প্রত্যাশা বা ক্ষোভ ছিলনা। তিনি অস্থির সময়ে শুশ্রূষার জলের মত সহজ, অনিবার্য হয়ে মিশে আছেন জলে আগুনে, নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে  । হয়ত সমকালীন কোলাহল থেমে যাবার পর তাঁর মনীষার মূল্যায়ন করবে ইতিহাস ।

তাঁকে নিয়ে অনেক কাজ হবে, আমরা করব, প্রিয়জনেরা করবেন । করাটা দরকার, কারণ আজ এই মধ্যমেধা ও অস্থির বিশ্বাসের সময়ে , দ্বিধার চূড়ান্তে, আমাদের অনুধাবন করতে হবে পৌরাণিক নয়, চেনা ইতিহাসের পাতায় বসবাসকারী সেই সব মানুষদের যারা তাঁদের জীবনচর্যা থেকে দেখিয়ে গেছেন , কিভাবে এই মানব জন্ম , ক্রম উত্তরণের মধ্য দিয়ে মুক্তির পথে অনন্তে মিলিত হয়। এই অন্বেষণ, এই অনুসরণ, থেকে পেতে পারি উন্নত জীবনের মূলসূত্রগুলি ।

সকল বয়স , সামাজিক অবস্থান মানুষের কাছে তাঁদের মত করে সহজিয়া এবং গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি , সবার প্রয়োজন মত । এই বহুমাত্রিক বাসুদেব কে সবাই চিনেছেন নিজেদের মত করে । তাই কবি বা সাহিত্যিক পরিচয় যথেষ্ট নয় , বাসুদেব একজন সম্পূর্ণ মানুষ  । রাজ্য প্রশাসন থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে মানব সম্পদ বিষয়ে তাঁর কর্ম জগতের বিস্তার  , মানসিক বা অস্তিত্ব সমস্যার মানবিক ও আধ্যাত্মিক সমাধান , হোমিওপ্যাথি থেকে উপনিষদে তাঁর বিচরণ ছিল জলের উপর সকালের  হাওয়ার মত স্নিগ্ধ  স্বচ্ছন্দ । অজাতশত্রু , নির্জন এই সাধক কবির প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধায় নিবেদিত হল এই সংসদের যৎসামান্য কর্ম প্রচেষ্টা ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s