Archive for October, 2014

স্থান – গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়য় , মালদা, পশ্চিম বঙ্গ
দিন ক্ষণ – ১৯ – ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪
বিষয় – আধুনিক বাংলা কবিতায় ব্যাতিক্রমী প্রয়াস
সঙ্গত ঃ কবিতা পাঠ
—————————————-
একটি আধুনিক কবিতা বিষয় কর্মশালা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান হয়ে গেল মালদায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কবি বাসুদেব দেব সংসদের যৌথ প্রয়াসে গত ১৯ – ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ । বর্তমান উপাচার্য মাননীয় গোপালচন্দ্র মিশ্র অনুষ্ঠানের পৌরোহিত্য করেন । দুই দিনের এই কর্মশালা “আধুনিক বাংলা কবিতায় ব্যাতিক্রমী প্রয়াস ” এর উপর , তাঁদের নানা মতামত তুলে ধরেন অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট কবিরা । আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন গোপা দত্তভৌমিক, সুতপা ভট্টাচার্য, সুনিমা ঘোষ, বিকাশ রায়, ঋষি ঘোষ প্রমুখ অধ্যাপকেরা এবং পাশাপাশি কবি সুব্রত রুদ্র, মৃদুল দাশগুপ্ত , গৌতম ঘোষদস্তিদার, সুব্রত সরকারের মত লব্ধ প্রতিষ্ঠ কবিরা । এই আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ব্যাতিক্রমী প্রয়াসের আলোয় কবি বাসুদেব দেবকে খোঁজার চেষ্টা ছিল লক্ষণীয় । অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে ছিল কবিতাপাঠ । কবিতা পাঠে ছিলেন মালদা এবং দিনাজপুরের বেশ কিছু নবীন প্রবীণ কবি – প্রীতম বসাক, অয়ন গোস্বামী, রাজীব সিংহ, নুরুল ইসলাম, তৃপ্তি সান্ত্রা, মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায়, শুভেন্দু পাল, ব্রততী ঘোষরায় , বিশ্বনাথ লাহা , শুভেন্দু বক্সি, রতন দাশ , বিভূতিভূষণ মণ্ডল, দীপাঞ্জনা শর্মা, উমাশঙ্কর বড়ুয়া , শান্তনু বিশ্বাস । অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিকল্পনা করেন কবিপুত্র পূষন দেব । বাসুদেব দেবের প্রসঙ্গে এই আলোচনায় অনিবার্য ভাবে উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানদের কথা । এবং সঙ্গে আলোচিত হয় বিনয় মজুমদার, অরুনেশ ঘোষ , বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত , ভাস্কর চক্রবর্তী প্রমুখের কবিতা । আলোচনায় সত্তরের কবিরা মূল ভূমিকা নেওয়াতে আলোচনা মূলত প্রাক ছয়, ছয় এবং সাতের দশকেই সীমাবদ্ধ ছিল ।
এই আলোচনা সভায় এটাই উঠে এলো যে , মানুষের জীবনে কবির ভূমিকা অপরিহার্য । সভ্যতা যতদিন থাকবে কবিতাও থাকবে । কবি অর্থ – যশ – মান প্রার্থী নন । আসন্ন ধ্বংসের এক সেকেন্ড আগেও কবিতা লেখা হয় আর কেউ পড়বেনা জেনে । কবিতা এক ক্ষরণ । একজন নিরলস কবিতাকর্মিই কবি যিনি ফলাফলের পিছনে না ছুটে অনুশীলন করে যান । তাঁরা নিজেই নিজের মাপকাঠি । কবির মধ্যে যুগ ধর্ম থাকে , তবু কেউ কেউ সচেতনভাবে ঠিক করে নেন তিনি সেই স্রোতে নিজের মতো থাকবেন । সেই নিজেরমত থাকা হয়ত তাঁদের জীবৎকালে তাঁদের জনপ্রিয় করেনা, সেটা তাঁদের লক্ষ্যও থাকেনা । চিরকালীন ক্যানভাসে অনেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন , অনেকে হারিয়ে যান । । কোথাও হয়ত একদল কবি প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে নিজেদের সচেতন স্বাতন্ত্র ঘোষণা করেন । সেটা নিয়ে হই চই হয় । হই চই তাঁদের প্রচার আলোয় নিয়ে আসে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বকালীন ঢেউ থেমে গেলে দেখা যায় সেই সব আন্দোলনে খুব বেশি বস্তু ছিলনা । বিভিন্ন সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি এই সব আনলোকিত মানিক্যনিচয়কে সাধারণের আলোয় নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে । ষাটের কবি বাসুদেব দেব জীবদ্দশায় এইরকম একজন মানুষ ছিলেন । নতুন আলোয়, নতুনদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে অনেক চর্চার প্রয়োজন, এই ধরনের আলোচনা সভায় বাসুদেব দেবের মতো নির্জনচারি, শুদ্ধ মানবতাবাদী মুখ গুলি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ।

Advertisements