Archive for August, 2013

বাসুদেব দেব ( ১৯৩৬ – ২০১২)
–==================

প্রিয় মানুষেরা যখন বাবার স্মৃতিতে কয়েক কথা লিখতে বলছেন নানা প্রসঙ্গে, তখন নিজের অবস্থানটা ঠিক ধরে রাখতে পারছিনা । মানুষ অমর নয়, সবাইকে চলে যেতে হয়, এসব সত্যি , তবে সুস্থ চিত্তে ও শরীরে জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষটি, এভাবে আচমকা, সব ভাসিয়ে, জীবনের রাস্তায় ভীষণ একা করে দিয়ে চলে গেলেন, সেই বিহ্বলতা কত দিনে কাটিয়ে উঠবো জানিনা । কিভাবে লিখব, পিতা বাসুদেব নাকি কবি বাসুদেব দেব সম্পর্কে নাকি এক বহুমাত্রিক নির্জন মহাত্মার প্রসঙ্গে । তিনি এক বিরাট মাপের মানুষ ছিলেন , এটা নিশ্চয়ই জানতাম তাঁর জীবদ্দশায় , খুব গর্ব বোধ করেছি এরকম মানুষের ঔরসে জন্ম নিতে পেরে । বস্তুত এরকম, পিতামাতা প্রাপ্তি আমার অনেক জন্মের সুকৃতির ফল । আজ অকস্মাৎ পাশে তিনি নেই, দেখছি জগতজোড়া শুন্যতা, আর সেই জগত জুড়ে রয়েছেন তিনি । বিশ্বাসের খুব গভীরে আছে ঈশ্বর বিশ্বাসের মূল, সেখানে মনোনিবেশ করলে এখন তাঁকে দেখি । অনেক বলতে হবে, লিখতে হবে, এ কোন প্রমাণের বিষয় নয় , তর্কাতিত বিশ্বাসের থেকেই আজ বুঝতে পারি বাবা ছিলেন এক ক্ষণজন্মা পুরুষ , ঈশ্বরের প্রেরিত সন্তান , দৈবীনারায়ণ । তাঁর চলে যাওয়ার পর এসব খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে । তাঁকে নিয়ে অনেক কাজ হবে, আমরা করব, প্রিয়জনেরা করবেন । করাটা দরকার, কারণ আজ এই মধ্যমেধা ও অস্থির বিশ্বাসের সময়ে , দ্বিধার চূড়ান্তে, আমাদের অনুধাবন করতে হবে পৌরাণিক নয়, চেনা ইতিহাসের পাতায় বসবাসকারী সেই সব মানুষদের যারা তাঁদের জীবনচর্যা থেকে দেখিয়ে গেছেন , কিভাবে এই মানব জন্ম , ক্রম উত্তরণের মধ্য দিয়ে মুক্তির পথে অনন্তে মিলিত হয়। এই অন্বেষণ, এই অনুসরণ, থেকে পেতে পারি এক উন্নত জীবনের মূলসূত্রগুলি । বাসুদেবের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২০সে ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের ( এখনকার বাংলাদেশ ) বরিশাল জেলায় । গ্রাম হিজলতলা । তিন কন্যা সন্তানের পর পুত্র সন্তান কামনা করেছিলেন পিতা অবিনাশচন্দ্র , কুলদেবতা বাসুদেবের কাছে । তাই পুত্রের নাম রাখেন বাসুদেব প্রসাদ । সরকারি নথিতে এই নাম থাকলেও ব্যাবহারিক জীবনের বাসুদেবই লিখতেন । নামে , কর্মে সত্যই হয়ে উঠেছিলেন সবার বাসুদেব সখা । সকল বয়স , সামাজিক অবস্থান মানুষের কাছে তাঁদের মত করে সহজিয়া এবং গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি , সবার প্রয়োজন মত । এই বহুমাত্রিক বাসুদেব কে সবাই চিনেছেন নিজেদের মত করে । দেব পরিবার হিজলতলা অঞ্চলে একটি বর্ধিষ্ণু জমিদার পরিবার হিসেবে থাকলেও বাসুদেবের পূর্ব প্রজন্ম শিক্ষকতাকে পেশা করে নিয়েছিলেন । তাঁর পিতা অবিনাশ চন্দ্র ছিলেন ইংরাজির শিক্ষক, এবং প্রধান শিক্ষক । বাসুদেব তাঁর বাল্যকাল কাটিয়েছেন সুগন্ধা নদীর পাড়ে চন্দ্রহার গ্রামে । ১৯৪৭ এ চলে এসেছিলেন হিজলতলায় , ১৯৪৭ এ দেব বাড়ির শেষ দুর্গা পুজা । শুরু হলো দাঙ্গা , খুনো খুনি । ১৯৪৭ এর স্বাধীনতা , পূর্ব পাকিস্তানের এই রকম বহু হিন্দু পরিবারে নিয়ে এসেছিল  অস্তিত্বের  অনিশ্চয়তা  ।

পাকিস্তানের পতাকা মেনে নিতে পারেননি । মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছিলেন তাঁরা , এই স্বাধীনতা,  চেয়ে কি তাঁদের এত আত্মত্যাগ । বাড়িতে চলত, খাদি উদ্যোগ , অনুশীলন কেন্দ্র , দেশী নুনের কারখানা, ছাত্রাবাস । কেউ এর অর্থ খুজে পাচ্ছিলেন না । এরই মধ্যে কয়েক জন কাকা চলে গেলেন কলকাতা, অবস্থা বুঝতে । ১৯৪৮ এর জানুয়ারি গান্ধিজিকে হত্যা করা হল, সেদিন এক বস্ত্রে পুত্র কন্যা নিয়ে বরিশাল জেটি ঘাট থেকে যাত্রা করলেন অবিনাশ চন্দ্র । বাসুদেব তখন এক বিহ্বল বালক । মন্বন্তর , দাঙ্গা, দেশভাগ, উদবাস্তু হবার স্মৃতি তাঁর লেখায় ফিরে ফিরে আসে ।  এই হাহাকার, কিন্তু কোনদিন প্রতিবাদের ভাষা পায়নি তাঁর কবিতায় । অভিমান ভরা , মাতৃহারা এক কিশোরের গলার ঘোঁটের মত, চোখ ছলছল করে থেকেছে । হারানো মাতৃ ভূমি বার বার ফিরে এসেছে তাঁর লেখায় । বারবার হারানো , তাঁকে বিপ্লবী করেনি, প্রেমিক করেছে । কারণ  হয়ত এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য, কিন্তু শেষ সত্য নয় । এভাবেই বরিশালের আরেক অমর কবির লেখা তাঁর জীবনে আপ্ত বাক্যের মত শেষ দিন পর্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে রইল । ১৯৪৮ – ৪৯ কেটেছে কাঁচড়াপাড়া অঞ্চলে, উদ্বাস্তু শিবিরে, তারপর নদিয়ার বেলপুকুর গ্রাম । এই গ্রাম, বাসুদেবের কৈশোর ক্ষতে দিয়েছিল নির্জনতা, শ্যামলিমার স্নেহ প্রলেপ । এখানকার লাইব্রেরিতে এক ঝলক আধুনিক বাংলা ভাষার হাওয়া ঢুকে পরেছিল । বিভূতিভূষণ , তারাশঙ্কর এবং রবীন্দ্রনাথের শেষদিককার লেখা পত্রের সঙ্গে পরিচয় এখানেই । আবার এখানেই তাঁর সংস্কৃত ভাষার শিক্ষা । পিতা ছিলেন ইংরাজি ভাষার শিক্ষক, শুনেছি তাঁর একটি ইংরাজি ব্যাকরণ বইও পাঠ্য ছিল । বাসুদেবের এই তিনটি ভাষায় সহজাত দক্ষতার বীজটি এখানেই বপন হয়েছিল । ১৯৪৯ – ১৯৫৪ সাল কেটেছে বেল পুকুরে । এখানেই তাঁর  ভগিনী  কনক এবং পিতৃ বিয়োগ  । ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় তখনকার দিনে দুর্লভ প্রথম বিভাগে পাশ করে, বৃত্তি নিয়ে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে চলে এলেন কলকাতায় পড়তে । আশুতোষ কলেজে  পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথমে ভর্তি হলেন । এই সময়ে তাঁর জীবনের পথে যোগ দিলেন এক ঝাঁক তরুণ । এই বন্ধুরা সঙ্গে থেকেছেন আজীবন , তাঁর জীবনের মণিকোঠার অমূল্য সব রত্ন হয়ে । এঁদের কথা না বললে বাসুদেবের জীবন কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে । সুপ্রিয় ঘোষ, মলয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক  চক্রবর্তী , মানস রায় চৌধুরী , অধীর মল্লিক, আশিস ঘোষ দস্তিদার আরো অনেকে আমি হয়ত সবার কথা মনে রাখতে পারিনি । মানস এবং অধীরের অকাল প্রয়ান তাঁকে গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছিল । বাবার সম্পর্কে তথ্য চিত্রটি রুপায়নের জন্যে সুপ্রিয় কাকুর  কাছে গেছিলাম । দেখলাম, উনি বাবার লেখা সব চিঠি কি পরম যত্নে সংরক্ষন করছেন , সব ঘটনা গুলি । এরকম বন্ধু ভাগ্য খুব কম মানুষেরই থাকে । বাবা –  সম্পর্ক , দেশ হারিয়েছেন যেমন, নিজ গুণে আবার ফিরে পেয়েছেন নতুন এক দেশ, নতুন সব সম্পর্ক গুলিকে । এই বহমানতাই তাঁর কবিতায়, লেখায়, জীবনে , বিশ্বাসে প্রতিফলিত । “সাহিত্যের ধর্ম  জীবনকে গ্রহণ, বর্জন নয় । গল্পে কবিতায় উঁকি দেয় নশ্বরতার রহস্য । সে সবই আমাদের জীবন ও মৃত্যু , ভালবাসা ও অপমান , পতন ও জয়, আমদের সময় ও সময় হীনতার গল্প । আমাদের অনুভব ও অভিজ্ঞতার অকিঞ্চন দলিল । ” কলকাতায় পড়ার সূত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যের ক্লাস করতে যাওয়া , এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা বিদেশি সাহিত্যের অবশ্য পাঠ্য সমূহ । একদিকে কাফকা, বদেলিওর, কামু, সাত্র , একদিকে দস্তয়ভস্কি, মায়াকভস্কি অন্যদিকে ইয়েটস, মালারম, রবার্ট ফ্রস্ট, এমিলি ডিক্সন , এলিয়ট, নেরুদা আবার ব্রাউনিং, ওয়ার্ডসঅয়ারথ , মিল্টন । এভাবে তাঁর চিন্তা চেতনা পেন্ডুলামের মত নাড়া খেয়েছে প্রতি নিয়ত । কতই বা বয়স তখন , আঠার থেকে কুড়ি । এই কথা এত বিস্তৃত বললাম এও জন্য যে বাসুদেবের রক্তে মেশা দর্শন আর সাহিত্যের মাদকতার কিছুটা কারণ এই সময়টা । এই সময় সমাজবাদী আন্দোলনের সংস্পর্শে এলেন । আসলে দল বা গোষ্ঠী বাদ দিলে যে কোন হৃদয়বান মানুষই তো সমাজবাদী, বামপন্থী । মানুষটা , প্রতিদিন ভেঙে গড়ে এই বয়স থেকেই তৈরি হচ্ছিলেন অননুকরনীয় শ্রেষ্ঠত্তের দিকে ।

১৯৬০ সালে ডবলু বি সি এস পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাঁর চাকুরি জীবন একটা গতে পড়লো ।  দমদমে থাকা কালীন  আমার মা মীরার সঙ্গে তাঁর  বিবাহ  হয় ১৯৬২ তে খড়দার বাড়িতে  । চাকরি জীবন নিয়ে বাবার স্মৃতি কথা “ দেখা শোনা” নামে প্রকাশ করেছেন  ডবলু বি সি এস সংগঠন ।  খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে  তাঁর – ১৯৬০ মালদা, ১৯৬০ – ১৯৬২ কোচবিহার, ১৯৬২ – ৬৫ (  ছিট মহলের গোলাগুলির  অভিজ্ঞতা , ভারত চিন যুদ্ধ ),  ১৯৬৫ – ১৯৬৯ ফলতা, ১৯৭০ – ৭১ সোনার পুর ( আন্দোলনের সময়, এবার বিপ্লব কিন্তু সরকারি ভূমিকায় অন্য চরিত্রে অভিনয় ), ১৯৭১ – ৭৫ তমলুক , ১৯৭৫ – ৮০ হীরক বন্দর , ১৯৮০ – ৮১ আলিপুর এ নির্বাচন কমিশন, ১৯৮০ তেই আমাদের কলকাতায় পাকা পাকি ভাবে বসত এবং আমার মতে বাসুদেবের জীবন  আর এক গুরুত্ব পূর্ণ রাস্তায় পড়লো ।  বয়স এবং সামাজিক, আর্থিক, পারিবারিক অবস্থান মানুষকে প্রতিনিয়ত বদলে নিতে বলে । স্বচরিত্র এবং পরিবর্তিত চরিত্রের দ্বন্দ্ব জীবনে নতুন মাত্রা আনে । কলেজ জীবনে এক গ্রাম্য কিশোরের চোখে দেখা মহানগর , তার হাতছানি, তাকে মেনে না নিতে পারা, তার সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্ব আবার মধ্য বয়সে তার কাছে ফিরে আসা তৈরি করে দ্বন্দ্ব । নাগরিক দ্বন্দ্ব ।  এক গোধূলি বিকেলের মায়া, বিষণ্ণতা , ফেলে আসা… যা আর পাওয়া যাবে না, মিনিবাস, কোথায় যাবে, কার বাড়ি , লাল দিঘির ওপর দিয়ে উরে যাওয়া বেলে হাঁস হয়ত বা,   কদের পাড়া, ছেড়ে আসা নদী মাঠ বাঁশ বন, কাশফুল, চণ্ডীমণ্ডপে দুর্গা পুজো, আবাসনের বারোয়ারি উৎসব, পণ্য , পণ্যময়তার – উদ্দেশ্যহীন উদযাপন, কর্কট রোগের মত মিশে যাওয়া দূষণ ও সাম্রাজ্যবাদ  , আর মধ্যবিত্তের আধ্যাত্মবাদ । দ্বন্দ্বে আকীর্ণ স্বত্বা । বিতর্ক থাকতে পারে । আমার মনে হয়ে একদিকে দ্বন্দ্ব, অন্য দিকে দ্বন্দ্ব উত্তীর্ণ আত্মানুসন্ধান বাসুদেবের বিশিষ্ট চরিত্রায়নের ভিত গড়তে থাকে । এখানে ক্রম পরিপক্ক হতে থাকে ভারতীয় দর্শন ও ধর্ম বোধ ( আমার মনে হয় দুটোই একে অন্যে সম্পৃক্ত ) যা কিনা শেষ পর্যন্ত তার সর্বকালীন আন্তর্জাতিক চিন্তা ভাবনার সঙ্গে ওতপ্রোত মিলে গিয়ে , তাকে  সমকালীন কোলাহল থেকে নির্জন করে, উত্থিত করেছিল এক ঋষির অভিধায় । এই কথা জোর দিয়ে বলার বিশ্বাস আছে আমার । গোড়ায় বলেছিলাম যে “নিজের অবস্থানটা ঠিক ধরে রাখতে পারছিনা …”, ভেবেছিলাম ন্যৈব্যাক্তিক ভাবে বাসুদেব দেবের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখব, কিন্তু কোথাও কোথাও ব্যাক্তিগত হয়ে পড়ছি । চাকুরি জীবনে তাঁর জীবনে উঠে এসেছিলেন অনেক মানুষ জন । কলেজ জীবনে যেমন আমার চোখে দেখা কয়েকজনের নাম না নিয়ে পারিনি, এখানেও তাই কিছু মানুষের নাম নিতেই হচ্ছে । এঁদের মধ্যে আজীবন হাত ধরে ছিলেন তাঁদের মধ্যে সন্তোষ চক্রবর্তী , দীপক ঘোষ , সুধেন্দু মল্লিক , মিহির রায় অশোক চক্রবর্তী, শিশির সুর, শিবপ্রসাদ চক্রবর্তী , সত্যব্রত চক্রবর্তী এঁরা প্রমুখ । আসলে বাবার জীবনে এত ঘনিষ্ঠ সব সম্পর্ক দেখেছি যে না গুলো আমার মত  স্বল্পস্মৃতির ( এটা  আমার  শারীরিক সমস্যা ) মানুষের না উত্থাপন করাই ভালো । বাবা যে জীবনস্মৃতি টি লিখছিলেন, “ নশ্বরতার জার্নাল ” নামে, তাতে পাতাঁর পর পাতা মানুষের নাম লেখা আছে, যাঁদের সম্পর্কে উনি কিছু লিখতে চেয়েছিলেন । জীবনের সর্ব ক্ষেত্রের মানুষ আছে সেখানে । ১৯৬৯ সাল নাগাদ ফলতায় থাকার সময়ে সম্পাদনা শুরু করলেন কালপ্রতিমা সাহিত্য পত্রের । অপ্রাতিষ্ঠানিক , উচ্চমানের সাহিত্য পত্র রূপে এখনো প্রকাশিত হয়ে চলেছে সে । নবপর্যায়ে পত্রিকাটির দায়িত্ব সঁপে ছিলেন বন্ধু নলিনী কুমার চক্রবর্তীর হাতে । কলাকাতায় আমরা থাকতাম লেকটাউনের বনফুল সরকারি আবাসনে । ১৯৮০ – ১৯৯৯ সেখানেই বসবাস । এই সময় পর্যটন দপ্তর,  ভারত সরকারের লৌহ ইস্পাত কমিশন ,  সরাষ্ট্র দপ্তর করে হাওড়া জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক হয়ে অবসর নিলেন , সরকারি চাকুরি থেকে সুনামের সঙ্গে, কোন রকম দুর্নীতি বা স্বজন পোষণের কালিমা ছাড়া। এই দীর্ঘ সরকারি চাকুরি জীবনে (১৯৬০ – ৯৪ ),   পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের প্রশাসক হিসেবে বহু গুরুত্ব পূর্ণ পদে , পদে পদে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করেছেন । প্রশাসক বাসুদেব আর কবি বাসুদেব কখনই গুলিয়ে যায়নি । এই জায়গাটা লক্ষ্য করবেন , অনেকের গুলিয়ে যায় । অনেকে আবার পদের ব্যাবহার করেন সাহিত্যের মই হিসেবে । বাবাকে বরাবর দেখেছি নিজ সিরধান্তে অবিচল , যুক্তিনিষ্ঠ । আমি , নিজে ম্যানেজমেন্ট শিক্ষিত, পৃথিবীর গন্য মান্য  কর্পোরেট মানুষদের সঙ্গে কাজ করি , আর অবাক হই বাবা পুঁথিগত শিক্ষা ছাড়া কিভাবে জন্মগত দক্ষতায় সে সব সিরধান্ত নিতেন । সাযুজ্য , মানবতা, কর্তব্যে দৃঢ়তা, গুণমান, পরিকল্পনা এবং পরিমিতি এভাবেই হয়ত তাকে ব্যাখ্যা করতে হয় ।  অবসর নেবার পর, আমৃত্যু স্পার নামের একটি জাতীয় স্তরের স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা  ছিলেন  ।

বস্তুত সরকারি অবসরের পর যেন আর ব্যাস্ত হয়ে গেলেন তিনি ।  ক্লাবে, পাড়ায়, অন্য রাজ্যে বিভিন্ন  স্বেচ্ছাব্রতী  সংস্থার  সাম্মানিক উপদেষ্টা হিসেবে ছড়িয়ে  দিলেন নিজেকে । দক্ষিন দমদম এলাকার , অরাজনৈতিক সমাজকর্মী গৌতম সাহার এবং গান্ধি সেবা সঙ্ঘের সঙ্গে সখ্য এই কাজের হাত ধরেই । যা ধরতেন তাই সোনা হয়ে যেত । ১৯৯৯ তে সরকারি আবাসন ছেড়ে  শ্রীপল্লীর, ৬৬ নম্বর এস কে দেব রোডের বাসিন্দা হলেন । তিনি ছিলেই বড়ই ব্যাক্তিগত । নির্জন । আত্মগত । মেলা, পুরস্কার , সম্মেলন থেকে দূরে । কারণ নিজ লক্ষ্যে ছিলেন অবিচল । নিজের ঘরেই ছিলেন স্বচ্ছন্দ ।  আশা করি ঘর শব্দটি আপনারা নিজের মত করে বুঝে নেবেন । বাসুদেব ছিলেন একধারে শান্ত, আত্মস্থ , অন্য দিকে একটি তরুণের মত প্রাণ চঞ্চল । তাঁর সারাদিনের কাজ দেখে তাঁর বয়স বোঝা যেতনা । সকাল সাত টায় উঠে প্রথমে  ধ্যান করতেন এক ঘণ্টা , তারপর ঈশ্বার স্মরণ করে চা খেতেন, পাতিপুকুর বাজার যেতেন । বাজার যাওয়া এবং সবার জন্য বেছে বেছে পছন্দের জিনিস আনা টা তাঁর জীবনের এক গুরুত্ব পূর্ণ অংশ ছিল । বাজারে  তিনি শুধুই জিনিসপত্র কিনতেন না, ব্যাপারীদের খোঁজ খবর করা , জামাটা , ওষুধ টা দেওয়া, ছেলেমেয়ের পরাশুনার খরচ ওঠান এসবও করতেন নিভৃতে । বাবার চলে যাওয়ার খবর পেয়ে ফুল দিদির বাড়িতে চলে এসে ছবিতে মালা পরানোর দৃশ্য আমাকে আজীবন নাড়া দেবে । হোমিওপ্যাথির অধ্যয়ন ও চিকিৎসা করতেন , অনেক মানুষ আসত তাঁর ওষুধ পাওয়ার জন্য । এই সূত্রে বিখ্যাত চিকিৎসক রাম কৃষ্ণ ঘোষ মণ্ডলের সঙ্গে তৈরি হয় পারিবারিক সম্পর্ক । মানুষ ভেঙে পরে আসত তাঁর কাছে , জীবন সমুদ্রে হাল ধরতে । অনেক পরিবার , বিবাহ, সম্পর্ক তিনি জুড়েছেন , মিলিয়েছেন ছন্দ । অবসরের পর , অফিসে না গেলে সারাদিন কাটত পড়াশোনা করে । অনেকদিন ধরে বলতেন, “সব উচ্ছিষ্ট , আর নতুন কিছু নেই , ধোঁকার টাটি ”, তাও পরতেন । বাংলা , ইংরিজিতে শব্দ ভেদ করতে ভালোবাসতেন । প্রচুর সমকালিন বিদেশি সাহিত্য পরতে , নিজেদের তার নিরিখে মূল্যায়ন করতেন । পল কহেলো , মারকয়েজ, প্রুস্ত, এই শ্রেণীটি ছাড়াও লুডলাম, জেফ্রি আরচার, সিডনি শেল্ডন, আরথার পো, আগাথা ক্রিস্টি , কোনান ডয়েল , ড্যান ব্রাউন ছিল তার প্রিয় । আসলে , পাশ্চাত্য সাহিত্যের গবেষণা ধর্মী , পরীক্ষা মূলক মানসিকতা তাকে টানত । সেই তুলনায়, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের মান নিয়ে তিনি বড়ই ব্যাথিত থাকতেন । চারিদিকে মধ্য মেধার সম্মেলন তিনি মেনে নিতে পারতেন না । নিজেকেও দূরে রাখতেন সকল প্রকার  সামাজিক ও সাহিত্য রাজনীতি থেকে । এখনতো দেখা যাচ্ছে দুটি রাজনীতিই একই ভাবে পরিবাহিত হয় । পাঠক ও সমর্থক একাকার হয়ে যায় । এটা অস্তিত্বের সংকট । আর এই অস্তিত্বের সংকটেই তাঁর ছিল ত্রাতার ভূমিকা । নিজের জীবনচর্যায় এবং জীবনদর্শনে তিনি রেখে গেছেন এই শাপমোচনের ইঙ্গিত । বাসুদেব দেব সংসদ তাঁর ঈপ্সিত কাজ গুলি করে যাবে । জীবনের প্রতিটি মোড়েই তিনি নিয়েছেন সাবলীল শিক্ষকের ভূমিকা ।  মফস্বলে , কলকাতায় তাঁকে ঘিরে গড়ে উঠত বুধসভা । আসতেন নানা জীবিকার মানুষ এবং বিশেষত সাহিত্যে কর্মী , পাঠক । বাসুদেব দেবের কবিতার বা সাহিত্যের সম্পর্কে কিছু বলবো না এই নিবন্ধে । কিন্তু যেটা বলবো তা হল, তাঁর এবং তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কবি ও গল্পকারদের গড়ে তোলার প্রয়াসের কথা । তমলুক , হীরক বন্দর , হলদিয়া এবং উত্তরবঙ্গে  ছড়িয়ে আছেন তাঁর হাতে পালিশ করা অনেক কবি সাহিত্যিক এবং সমাজকর্মী । আমরা দেখেছি দিনের পর দিন বাবা কিভাবে, বন্ধুর মত, বড় দাদার মত তাঁদের সাহিত্য চরিত্র গঠনে ভূমিকা নিতেন । ছন্দ, প্রকরণ  ( form & style ),  বানান এই বিষয়ে বসত পাঠের আসর । আমার মা, নিঃশব্দে বাবার এই কর্ম কাণ্ড কে সমর্থন করে গেছেন , শ্রোতা হিসেবে , খাবার – শোবার ব্যাবস্থা কোরে । তাঁদের বেশির ভাগই এখন আমাদের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে যুক্ত । শ্যামল কান্তি দাশ , গৌর শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ,  দীপক হালদার , আমিতাভ দত্ত, ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়,   সুব্রত সরকার , যশোধরা রায়চৌধুরী, রাখাল বিশ্বাস , প্রণব সেন , রাণা চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ এই বৃহত্তর পরিবাবের অঙ্গ  । কিছু মানুষ অবশ্য সরে গেছেন , কোন অজানা কারণে , যাদের কিনা শেষ দিন অবধি দেখেছি সাহায্য নিতে । সেই যাত্রা শুরু কবেকার মেখলি গঞ্জ শহরতলিতে যেখানে ব্লক অফিসের নাম বদলে রাখতে ছেয়েছিলেন বিকাশ বীথি , নাটক – গান বেঁধে , বেঁধে ছিলেন মানুষকে ইন্দো চিন যুদ্ধের সময় । মানুষ যখন বেঁচে থাকে শরীরে , আশেপাশে উমেদার ঘুরঘুর করে, মানুষের কত আলহাদ তা দেখে , চলে গেলে এই হাট শুনশান । বাবার চলে যাওয়ায়, এত মানুষ আসতে শুরু করলেন যে আমরা ব্যাক্তিগত শোকের সময়টাও পাইনি । ধুপকাঠি পুড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় রেখে যায় তার সুবাস । বাবার টানে , তার হৃদয়ের সুবাসে মানুষ আমাদের কাছে আসবেন । আমাদের অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে তাই । বাবার মত সুবিশাল প্রতিভার সমকক্ষ হয়ে ওঠা এই জীবনে সম্ভব নয়, কিন্তু মানুষের কিছু শুশ্রূষার অংশদার যদি হতে পারি, তাহলে তিনি প্রসন্ন হবেন । বাবা কোন কিছু বকে বা চেষ্টা করে শেখাননি । কারুর নিন্দে করতেও শুনিনি ।  মিলেমিশে পত্রিকার জানুয়ারি ২০১৩ সংখ্যায় , বাবার এই দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে । সেখানে দিদি লিখেছেন, যে বয়সে বাচ্চারা শেখে “ মনে কর যেন বিদেশ ঘুরে  ” সেই বয়সে আমরা শিখেছি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ,  মঙ্গলাচরণের কবিতা । জন্মদিনে , বিবাহ বার্ষিকীতে আমরা দামি উপহার পাইনি, অমূল্য সব উপহার পেয়েছি । বাবা মায়ের আশীর্বাদ আর বাবার হাতে লেখা নানা বয়সের মত করে কবিতা । আমাদের কিছু ব্যাক্তিগত , উদ্দেশ্য থাকে এই মানব জন্মের । আমাদের মনে হয়, এই বাবা মায়ের সন্তান হওয়াই আমাদের এই মানব জন্মের অভীষ্ট । একদিকে ঈশ্বর  দর্শনের আকুতি , অন্যদিকে সংস্কারহীন , যুক্তিবাদী মন । এই দুয়ের অন্তমিল ছিলেন তিনি । রোজ সকালে শুদ্ধ সংস্কৃতে মন্ত্রোচ্চারণ করে ঈশ্বরের বন্দনা করতেন, সন্ধ্যারতি করতেন । নিত্যকর্ম পদ্ধতি সম্পর্কে ছিল বিস্তৃত নোট । আমরাদের বাড়িতে শুধুই বাঙালি উচ্চারণে মন্ত্র পড়া পুরহিতের প্রবেশ ছিল নাস্তি । আধুনিক কবিতায় গীতা , বেদাঙ্গ , উপনিষদের অনুবাদ করেছেন অজস্র । এগুলি এখন সর্ব সমক্ষে আনা হয়নি । শ্রীকৃষ্ণের অনুধ্যান ছিল তাঁর ঈশ্বর প্রেরণার মূলে । কবি এবং সাধক শ্রী পরমানন্দকে বসিয়েছিলেন গুরুস্থানে ।  বাবার ওপর সব ছেড়ে দিয়ে বেশ নিশ্চিন্ত ছিলাম আমরা । এভাবেই হয়ত চলত । কিন্তু তাঁর অভিপ্রায় হয়ত ছিল অন্য । ক্রান্তদর্শী এই পুরুষ নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছিলেন পৃথিবীতে তাঁর শেষ দিনটির জন্য । আমাকে বলেছিলেন তাঁর পৌত্র কবে আসবে । সেসব মিলিয়ে তাঁর যাবার সময় হয়েছিল হয়ত । নানা রকম ইঙ্গিত ছড়িয়ে রেখেছেন কথায় ও  কবিতায়, আস্তে আস্তে তার অর্থ হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে । ভালবাসেতেন অন্ধকারে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে  বা পাঠ করতে । গোধূলি গগনে মেঘে, উদাসি হাওয়ার পথে পথে  , মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে , আমারে তুমি অশেষ করেছ ,  নদী আপন বেগে পাগল পারা, মোর পথিকেরে বুঝি এনেছো এবার , আমার মিলন লাগি তুমি আসছ কবে থেকে এসব ছিল তাঁর প্রিয় রবীন্দ্রগান । কবি, সাধক হলেও তাঁর  বাস্তব বিচার বুদ্ধি ছিল প্রবল । আগেই বলেছি সাযুজ্য এবং সকল যা কিছু ভাল তার সংমিশ্রন ছিল তাঁর স্বভাবে । ব্যাঙ্ক , কবিতার খাতা, আমাদের লেখা লিখি এবং বিভিন্ন সময়ে তোলা আলোকচিত্র , দলিল , শংসাপত্র সব কিছু সাল তারিখ দিয়ে সংরক্ষন করে রাখতেন । কবি বাসুদেব দেব কে দেখি অনেকে মূল্যায়ন করেন ষাটের কবি বলে , এই দশকের কবিদের ঘরানা থেকে তিনি ছিলেন স্বাতন্ত্র , বয়সে , বিচারে অগ্রজ । তাঁর প্রিয় বন্ধুরা ছিলেন পঞ্চাসের কবি । প্রত্যেক দশকের কিছু নিজ ধর্ম থাকে ( property) , তাঁকে দশকের ধর্মে মাপাটা ঠিক হবেনা । অনেকে বলেছেন তিনি সামাজিক কবি , কবি তো সমাজ থেকেই উঠে আসেন । নশ্বর জীবনের মানব ধর্মের সোপান বেয়ে, নশ্বর ও অবিনশ্বরের  মাঝখানে এক  অলৌকিক  গোধূলি আলোয় মাখা তাঁর কবিতার সারংসার । সমাজে , সংসারে তিনি সাধনা করেছেন , খুঁজেছেন অলৌকিক সংকেত । এই রকম কবিতা বেশি একটা লেখা হয়নি বাংলা ভাষায় , অন্য ভাষার কথা জানিনা । চেনা শব্দে , ভীষণ সরল ভাষায়, সংক্ষেপে লিখেছেন কবিতা সমূহ । আশা করি  তাঁর কবিতার ও দর্শনের মূল্যয়ান করবে ভবিষ্যৎ । পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে লিখে চলেছেন কবিতা, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধ । তথ্যের জন্য এখানে দিয়ে দিচ্ছি বাসুদেব দেবের প্রকাশিত গ্রন্থ তালিকা ;

উপন্যাস ঃ পুড়ে যাচ্ছে , ১৯৯৪আত্মজৈবনিক ঃ দেখা শোনা (১৯৯৯৬) নাটিকা ঃ বারণাবতের বাড়ি , বউএর খুব অসুখ (২০০০) গল্প সংকলন ঃ আমার খুব জ্বর (১৯৯৮), মাধুরীর ছাতা (২০১২) কাব্য নাটক ঃ নক্ষত্র ও নীবারের গান (১৯৯৮) কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ ঃ কবিতা কাল প্রতিমা লঘুপদ্য ঃ সেই ছেলেটা …( ২০১৩) জীবন দর্শন ঃ পথ চলে যায়, প্রিয় ঠিকানায় ( ২০১৩, প্রকাশিতব্য) কবিতা ;একটা গুলির শব্দে (১৯৬৭) রৌদ্রের ভিতরে চিঠি (১৯৭০) রাঙা সখী ভাল থেকো (১৯৮০) তোমার ঘুঙুর (১৯৮১) নাও আমাকে নাও (১৯৮২) আরো কাছে যেতে (১৯৮৪) দেখা দাও প্রতিদিন (১৯৮৬) আমাদের আলো অন্ধকার (১৯৯৭) হেমন্ত সন্ধ্যার গান (২০০১) আরো কিছু কথা (২০০৮) নির্বাচিত কবিতা ( ১৯৯৪ ও ২০১১) A red hibiscus (  ২০১২ )

জীবনের শেষ কয়েক বছর নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন সংসার থেকে । লেখালিখি কমে আসছিল ।  একরকম সমর্পণ করেছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণের পদকমলে । বলতেন নিজের লেখাটাও আত্ম প্রকাশ , অহং । সব প্রশ্ন উত্তর আর অন্বেষণ যেখানে শেষ হয় । কর্ম মুক্তি পায় ।  তারপর , দুদিনের মামুলি অসুখে মায়া কাটিয়ে অবশেষে চলে গেলেন , হয়ত রামকৃষ্ণের পদকমলেই । বরাহনগরের , রামকৃষ্ণ ঘাটে এক নির্জন সন্ধায় তাঁর অস্থি ভাসিয়ে দিলাম যখন , দূরে একটি নক্ষত্র যেন জ্বলে উঠল , জলের ঢেউ বলে গেল , বেঁচে থেকো বাবা, ভালো থেকো আমি তো আছিই রোদে আর বৃষ্টিতে , ঘাসে আর পাতায় । আসব তোমাদের কাছে বাতাস হয়ে । মাথার চুলে স্পর্শ করে চলে গেল শরতের হাওয়া । ৯ ই অক্টোবর ২০১২  । বাবা বলতেন ঈশ্বরের দ্বারাই এই জগত আচ্ছন্ন, তাঁর ইচ্ছা ছাড়া একটি পাতাও কাঁপেনা । তাঁর আলোতেই  সমস্ত কিছু আলোকিত । তস্য ভাসা সর্ব মিদং বিভাতি । আমাদের কাছে বাসুদেব দেব সেই ঈশ্বর । চলমান মন্দির । তাঁর আলোকেই আমরা আলোকিত হয়ে থাকতে চাই । আর সেই আলো ছড়িয়ে দিতে চাই । তোমরা সে আলো নেবে তো ?

Advertisements